শনিবার বিকেলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ন্যূনতম পরিবেশ নেই। বিজ্ঞপ্তিতে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পূর্বের তুলনায় আরও নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে বলে দাবি করেছে দলটি।
শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, “দেশবাসী একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা করলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট তার উল্টো কথা বলছে। অনেক রাজনৈতিক দল ও শক্তিকে কৌশলে নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এমন অবস্থায় তথাকথিত এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্য সম্ভব নয়।”
নির্বাচন বর্জনের পেছনের কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার আরও জানান যে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লুণ্ঠন হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়া এবং প্রার্থীদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকা তাদের এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, “যেখানে প্রার্থীরাই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, সেখানে সাধারণ ভোটাররা কীভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসবেন? একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে ধরনের সমতল ক্ষেত্র (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) এবং প্রস্তুতির প্রয়োজন, তা এখন পর্যন্ত অদৃশ্য।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মতো একজন অভিজ্ঞ মুক্তিযোদ্ধার দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো মূলত বর্তমান প্রশাসনের জন্য একটি বড় ধরনের সিগন্যাল। ইতিপূর্বে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছিলেন যে, যদি বড় রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রেখে কোনো ‘একতরফা’ নির্বাচন করা হয়, তবে তিনি তাতে শামিল হবেন না। আজকের এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি তার সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন ঘটালেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের ‘শক্ত ঘাঁটি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বঙ্গবীরের এই ঘোষণার ফলে টাঙ্গাইলের অন্তত ৮টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে সখিপুর ও বাসাইল অঞ্চলে দলটির যে বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে, তা নির্বাচনে না পড়লে ভোটের লড়াইয়ের জৌলুস ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আরও যোগ করেন যে, তারা কেবল ক্ষমতার রাজনীতির জন্য নয়, বরং আদর্শিক ও জনবান্ধব রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাই প্রশ্নবিদ্ধ কোনো প্রক্রিয়ার অংশীদার হয়ে তারা নিজেদের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ক্ষতি করতে চান না। তবে দলটির এই সিদ্ধান্তের পর টাঙ্গাইলের সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বঙ্গবীরের মতো অভিভাবকতুল্য নেতার অনুপস্থিতি নির্বাচনী ময়দানকে অনেকটা ফাঁকা করে দেবে।

