বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে দলটির কাণ্ডারি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। অন্যদিকে, ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও মাঠপর্যায়ের বলিষ্ঠ নেতা রফিকুল ইসলাম জামালকে। উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গত ৩ নভেম্বর প্রাথমিক তালিকায় তাদের নাম আসলেও শনিবার সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
ঝালকাঠি-২ আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এ অঞ্চলের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল প্রয়াত স্বামী ও সাবেক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর আদর্শে। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছিলেন; সে সময় তিনি ঝালকাঠির রাজনীতির অন্যতম প্রধান পুরুষ আমির হোসেন আমুকে পরাজিত করে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। যদিও ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি সামান্য ব্যবধানে হেরেছিলেন, তবে দীর্ঘ নির্বাসন ও প্রতিকূলতা কাটিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। নারী নেতৃত্ব এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বিএনপি হাইকমান্ড তার ওপর পুনরায় আস্থা রেখেছে।
মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “বিএনপি জনগণের দল, আর আমি মানুষের সেবা করতেই রাজনীতিতে এসেছি। ঝালকাঠির মাটি ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। সাধারণ মানুষের দোয়া ও সমর্থন থাকলে এবারও এই আসনে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত হবে।”
অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল দলটির একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে স্বীকৃত। তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপির হয়ে লড়েছিলেন এবং শত প্রতিকূলতার মাঝেও ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া অঞ্চলে দলীয় ভিত্তি মজবুত রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি প্রায় ৪০ হাজার ভোট পেয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছিলেন।
রফিকুল ইসলাম জামাল তার নির্বাচনী লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে আছি। নির্বাচিত হতে পারলে আমি ঝালকাঠির নদীভাঙন কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াব। বিশেষ করে ঝালকাঠি থেকে আমুয়া পর্যন্ত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কৃষি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন আমার প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝালকাঠির এই দুই আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচন অত্যন্ত কৌশলগত হয়েছে। একদিকে ইলেন ভুট্টোর মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় নেতৃত্বকে আনা হয়েছে, অন্যদিকে রফিকুল ইসলাম জামালের মতো সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ঝালকাঠির নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের রদবদল ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ঝালকাঠির বিএনপি নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি প্রার্থীদের দীর্ঘদিনের দায়বদ্ধতা এবার ব্যালটে প্রতিফলিত হবে। আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে বিএনপি যেভাবে প্রার্থী চূড়ান্ত করে আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে, তাতে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক কৌতূহল ও আশার সৃষ্টি হয়েছে। দুই আসনেই এখন ধানের শীষের প্রার্থীরা কোমর বেঁধে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগামী দিনের নির্বাচনী লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে।

