আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতি। গত বুধবার কেন্দ্র থেকে জোটগত সমঝোতার কারণে এই আসনের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা শহীদ ইকবাল হোসেনের পরিবর্তে শরিক দলের প্রার্থীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার বিকেলে মনিরামপুরে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে এক নজিরবিহীন বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মীরা।
বিকেল থেকে মনিরামপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হতে থাকেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারী অনেক কর্মীর মাথায় কাফনের কাপড় বাঁধা ছিল, যা দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রতি তাঁদের চরম অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিক্ষোভ মিছিলটি মনিরামপুর পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিল চলাকালীন উত্তেজিত নেতাকর্মীরা ‘অবৈধ মনোনয়ন মানি না, মানব না’ এবং ‘তৃণমূলের দাবি মানতে হবে’ বলে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে মনিরামপুর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই এবং উপজেলা সিনিয়র সহসভাপতি মফিজুর রহমানসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, শহীদ ইকবাল হোসেন এই অঞ্চলের তৃণমূলের অত্যন্ত প্রিয় ও জনপ্রিয় নেতা। চরম প্রতিকূল সময়েও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শকে আঁকড়ে ধরে নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন।
কিন্তু নির্বাচনের আগ মুহূর্তে তাঁকে বাদ দিয়ে জোটের শরিক দল জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে মনোনয়ন দেওয়া মনিরামপুরের সাধারণ ভোটার ও কর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীকাল শনিবারের মধ্যে যদি এই ‘ভুল’ সিদ্ধান্ত সংশোধন করে শহীদ ইকবালকে মনোনয়ন ফিরিয়ে দেওয়া না হয়, তবে মনিরামপুরে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ ডিসেম্বর প্রাথমিকভাবে যশোর-৫ আসনে মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল বিএনপি। এর ফলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছিল।
কিন্তু গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জোট সমঝোতার তালিকা প্রকাশ করা হলে দেখা যায়, এই আসনটি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আসন পরিবর্তনের এই সংবাদ মনিরামপুরে পৌঁছালে সেদিন থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়, যা আজ শুক্রবার আরও চরম রূপ ধারণ করল।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের দাবি, মনিরামপুরের রাজনৈতিক সমীকরণে শহীদ ইকবাল হোসেনই জয়লাভের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। জোটের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলে এখানে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি খাইরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মকবুল ইসলাম, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক প্রমুখ। সমাবেশের শেষ পর্যায়ে আব্দুল হাই ঘোষণা করেন যে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করা হলে আগামীকাল থেকে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তাঁরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যশোর-৫ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।

