জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে রাষ্ট্রযন্ত্র কিংবা প্রশাসনের কোনো অংশের পরোক্ষ যোগসূত্র থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ চত্বরে আয়োজিত এক সমাবেশে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন তার বক্তব্যে দাবি করেন, ওসমান হাদির খুনিরা দেশের ভেতরেই আত্মগোপনে আছে নাকি সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়েছে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যে খুনিদের পরিচয় ও কর্মকাণ্ড প্রকাশ্য, তাদের পক্ষে একটি সুসংগঠিত চক্রের সহায়তা ছাড়া এভাবে পালিয়ে থাকা অসম্ভব। তিনি বলেন, “আমাদের মনে হয় এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় কোনো গভীর ষড়যন্ত্র ও শক্তিশালী চক্র কাজ করছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চক্রকে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
সমাবেশে তিনি দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বা গানম্যান দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যদি প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়, তবেই সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করবে এবং ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের জঘন্য খুনের পরিকল্পনা করার সাহস পাবে না। গত দেড় বছরে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও সংঘাতের বিচার প্রক্রিয়ায় সরকারের মন্থর গতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতিই আজ ওসমান হাদির মতো প্রাণ কেড়ে নেওয়ার সাহস জোগাচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, সরকার নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করলেও একটি মহল নানাভাবে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে পতিত স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা দেশকে অস্থিতিশীল করতে এখনো তৎপর। তিনি অভিযোগ করেন যে, গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যদি শুরুতেই বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর করা হতো, তবে আজ ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনায় দেশপ্রেমিক তরুণদের প্রাণ হারাতে হতো না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারকে দ্রুত শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. আল মামুন, মহানগরের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক এবং রংপুর-৪ আসনের সমন্বয়কারী আব্দুল্লাহ-আল মামুন উল্লেখযোগ্য।
এদিকে, শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতি অম্লান রাখতে এবং তার আদর্শ তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে রংপুর নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি ও টাইপোগ্রাফি অঙ্কন কর্মসূচি শুরু করেছে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ সংলগ্ন এলাকায় এই শৈল্পিক প্রতিবাদ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মনে করেন, দেয়ালচিত্রের মাধ্যমে হাদির আত্মত্যাগের বার্তা সাধারণ মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত থাকবে এবং ইনসাফ কায়েমের লড়াইকে বেগবান করবে।

