দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজই মাতৃভূমিতে পা রেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তনের পরদিন, অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি। তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং মোতায়েন করা হয়েছে চার স্তরের কঠোর নিরাপত্তা বলয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তার দেশে ফেরার এই মুহূর্তটি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল জুমার নামাজের পর তিনি প্রথমে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে তার পিতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সেখান থেকেই সড়কপথে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তিনি।
তারেক রহমানের এই আগমন ঘিরে সাভার ও আশুলিয়া এলাকার বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপি সমর্থিত নেতা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু জানান, প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে সাভার-আশুলিয়া থেকে প্রায় এক লক্ষ নেতাকর্মী স্মৃতিসৌধ এলাকায় উপস্থিত থাকবেন বলে তারা আশা করছেন। নেতাকর্মীদের এই বিশাল সমাগম সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায় থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা জেলা পুলিশ অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সাভারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক, ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আরাফাতুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সফর এবং জনগণের ব্যাপক উপস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখে স্মৃতিসৌধ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি এবং ড্রোন দিয়ে আকাশপথের পর্যবেক্ষণও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এই চার স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনায়।
এদিকে, স্মৃতিসৌধ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার খান আনু জানান, তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা ও আনুষঙ্গিক সাজসজ্জার কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে আগামীকাল জনগণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং জনজট এড়াতে শুক্রবার সকালে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর আজই প্রথম দেশের মাটিতে পা রাখলেন তারেক রহমান। তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও স্মৃতিসৌধ সফরকে কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির একটি নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

