বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এবং বিশ্বের প্রভাবশালী সংস্থা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে এক নতুন সহযোগিতার দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। রবিবার (২১ ডিসেম্বর) মতিঝিলস্থ বাফুফে ভবনে সংস্থাটির নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে সৌজন্য সফরে এসে এই সম্ভাবনার কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে ইউরোপীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো এবং সম্ভাব্য স্পনসরশিপের ক্ষেত্রগুলো খতিয়ে দেখা।
সফরকালে রাষ্ট্রদূত মিলার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এবং ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একটি দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সভায় বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান কাঠামো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বিশেষ করে নারী ফুটবলের সাফল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, “আমরা এখানে এসেছি বাংলাদেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে সহযোগিতার সুযোগগুলো খতিয়ে দেখতে। এটি মূলত একটি প্রাথমিক আলোচনা হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা দেখতে চাই কীভাবে এ দেশের তরুণরা খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারে এবং কীভাবে একটি জাতি হিসেবে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতার জন্য নিজেদের দলগুলোকে সমর্থন জোগাতে পারে।”
ইউরোপকে বিশ্ব ফুটবলের ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, বাফুফের জন্য তাঁদের কাছে কোনো ‘রেডিমেড’ সমাধান না থাকলেও, তাঁরা আলোচনার মাধ্যমে বাস্তব পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বাফুফেকে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন, যাতে উন্নত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা আদান-প্রদান সহজ হয়।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এই সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমাদের মূলত আইডিয়াস এক্সচেঞ্জ বা ধারণা বিনিময়ের একটি বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষের লক্ষ্য একই—বাংলাদেশের ফুটবলের সার্বিক উন্নয়ন। বিশেষ করে নারী ফুটবল দল ও নারী রেফারিদের ক্ষমতায়নে ইইউ-এর আগ্রহ আমাদের উৎসাহিত করেছে।”
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে লিঙ্গ সমতা, সামাজিক সচেতনতা এবং টেকসই উন্নয়নের কাজ করে আসছে। তাবিথ আউয়াল আরও যোগ করেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখন খেলাধুলার মাধ্যমেও বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হতে চায়। আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন এবং কিছু সাকসেস স্টোরি (সফলতার গল্প) আছে, যা তাঁদের নীতিনির্ধারকদের কনভিন্স করতে বা বোঝাতে সহায়ক হবে। স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে দুই সংস্থার মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
সফরকালে রাষ্ট্রদূত মিলার বাফুফের অ্যাস্ট্রো টার্ফ মাঠ পরিদর্শন করেন এবং নারী রেফারি সালমা আক্তারসহ ফুটবল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। বাংলাদেশের ফুটবলে বিদ্যমান সংকটকালীন সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সদর্থক ভঙ্গি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।
