ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চের’ মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুলিটি তাঁর মাথার ডান দিক দিয়ে প্রবেশ করে বাম কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেলেও, এর সূক্ষ্ম অংশবিশেষ (প্রিলেট) এখনও তাঁর মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রয়ে গেছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর, ২০২৫) সন্ধ্যায় এই রাজনৈতিক নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে ঢামেক কর্তৃপক্ষের ব্রিফিংয়ের পরপরই তাঁকে দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক (আরএস) ডা. মোস্তাক আহমেদ শরিফ ওসমান হাদির শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি নিশ্চিত করেন, “শরিফ ওসমান হাদির মাথার ডান দিক দিয়ে গুলি ঢুকে বাম কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। তবে সেই গুলির দুই-একটি অংশবিশেষ (প্রিলেট) এখনও মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রয়ে গেছে।”
ডা. আহমেদ আরও জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে আনার পর নিউরোসার্জারির অভিজ্ঞ সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি দল জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছেন। অস্ত্রোপচারের আগে তাঁর সিটিস্ক্যান করা হয়, যেখানে দেখা যায় যে, ছোট পুঁতির থেকেও আরও সূক্ষ্ম ধাতব বলের (প্রিলেট) অস্তিত্ব মস্তিষ্কে রয়েছে।
তিনি বলেন, “অস্ত্রোপচারের সময় সেরকম একটি প্রিলেট বের করা সম্ভব হয়েছে। আরও দুই-একটি অংশবিশেষ এখনও ব্রেনের মধ্যে আছে।” চিকিৎসকদের মতে, এই গুলির কারণে রোগীর মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল এবং ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেশার (ব্রেনের চাপ) অনেক বেড়ে গিয়েছিল। রক্তক্ষরণ বন্ধ করা এবং মস্তিষ্কের চাপ কমিয়ে আনাই ছিল এই অস্ত্রোপচারের প্রধান লক্ষ্য। সফলভাবে অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন বিবেচনা করে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শরিফ ওসমান হাদিকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সটি ঢামেক হাসপাতাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হয় এবং রাত ৮টা ৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।
গতকাল দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণাকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনী সময়ের ঠিক আগে একজন সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে এবং অপরাধীরা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
