বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা শিশুদের সুষম বিকাশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-১০ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)-এর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) ঢাকা-১০ আসন এলাকায় স্থানীয় প্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজিত ‘অপ্রতিরোধ্য সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, “একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে একটি পরিবারের পক্ষে এককভাবে গড়ে তোলা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এই শিশুদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সামাজিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। এটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অন্যতম একটি অংশ।” তিনি জোর দেন যে, প্রতিবন্ধীদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারলে তাদের মেধা ও প্রতিভার কারণে জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত করা সম্ভব। অনেকেই ইতোমধ্যে এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার সকলকে ‘প্রতিবন্ধী’ না বলে বরং ‘প্রতিবন্ধকতায় আটকে আছে’—এই শব্দ ব্যবহার করার আহ্বান জানান। তিনি উদাহরণ হিসেবে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংয়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “স্টিফেন হকিং শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে ছিলেন, কিন্তু তিনি পৃথিবীর ইতিহাসে একজন বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী হতে পেরেছেন।
শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তিনি নিজের প্রতিভা ও মেধা বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন। এটি তিনি এককভাবে পারেননি। বরং তাঁর পরিবার এবং তাঁর সমাজ তাঁকে এই কাজটি করতে সহযোগিতা করেছে।” তিনি বলেন, আমরাও যদি শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা আমাদের শিশুদের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সহযোগিতায় এগিয়ে আসি, তবে আমাদের শিশুরাও বিশ্বের বুকে সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ১৯৯২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশ কেবল দিবস পালনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আটকে থাকা শিশুদের বিষয়ে কার্যকর ও সুদূরপ্রসারী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার ঢাকা-১০ আসনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণ তাঁকে নির্বাচিত করলে তিনি সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে নিশ্চিতকরণে কাজ করবেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, “প্রতিবন্ধী ভাতার নামে সামান্য ভাতা দিয়েই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ নয়। বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিটি নাগরিককে মর্যাদাবান করে গড়ে তোলা।”
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১০ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালক অধ্যাপক নুর নবী মানিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-১০ আসনের নারী সমন্বয়ক ড. ফেরদৌস আরা খানম বকুল এবং সৃজনশীল নারী ও প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সেক্রেটারী রওশন আরা।
নিউমার্কেট থানা আমির মাওলানা মহিব্বুল হক ফরিদের পরিচালনায় স্থানীয় সাইয়্যেদনা কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধানমন্ডি থানার সাবেক আমির অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন তালুকদার এবং হাজারীবাগ দক্ষিণ থানা আমির আখতারুল আলম সোহেল।
