সিরিজের প্রথম ম্যাচে হোঁচট খাওয়ার পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে পরাজিত হলেও, টানা পরের দুটি ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন টাইগাররা। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ব্যাটে ও বলে আইরিশদের সম্পূর্ণভাবে পরাস্ত করে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড দল ১৯ ওভার ৫ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন পল স্টার্লিং। জবাবে, বাংলাদেশ মাত্র ১৩ ওভার ৪ বলে ২ উইকেট হারিয়ে সহজেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ওপেনার তানজিদ তামিম। তিনি শুধু ব্যাটে আগ্রাসী ইনিংসই খেলেননি, ফিল্ডিংয়ে গড়েছেন এক অনবদ্য বিশ্ব রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশের ফিল্ডার হিসেবে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ পাঁচটি ক্যাচ ধরার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। ফিল্ডিংয়ে এমন রেকর্ড গড়ার পর ব্যাট হাতেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তামিম। তিনি ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৫ রানের একটি দায়িত্বশীল অর্ধশতক হাঁকান। অন্য প্রান্তে পারভেজ ইমন ২৬ বলে ৩৩ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ দুর্দান্ত সূচনা করে। নতুন ওপেনিং জুটিতে তানজিদ তামিমের সঙ্গে ছিলেন সাইফ হাসান। দুজনে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে ৩৮ রান যোগ করেন। সাইফ হাসান ১৪ বলে ১৯ রান করে আউট হলে এই জুটি ভাঙে। এরপর তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক লিটন দাস ব্যর্থ হন; তিনি মাত্র ৬ বল খেলে ৭ রান করে দ্রুত বিদায় নিলে একসময় কিছুটা বিপত্তির সৃষ্টি হয়। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তানজিদ তামিম এবং পারভেজ ইমন সেই পরিস্থিতি সামলে নিয়ে দলকে নির্বিঘ্নে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা কিছুটা দুর্বল ছিল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মেহেদী হাসান ১৩ রান খরচ করেন। তবে পেসার শরিফুল ইসলামের শিকার হওয়ার আগে টিম টেক্টর (১৪ রান) দুই চার ও এক ছয়ের সাহায্যে ভালো শুরু করেন। পাওয়ার প্লে’র (প্রথম ছয় ওভার) শেষ ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান উইকেট পান। এর আগে পঞ্চম ওভারের শেষ বলে হ্যারি টেক্টর সিঙ্গেল নিলে আয়ারল্যান্ড পঞ্চাশ রান পূর্ণ করে। পাওয়ার প্লে শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ৫১ রান।
মুস্তাফিজুর রহমানের শিকার হয়ে হ্যারি টেক্টর (৫) অদ্ভুতভাবে আউট হন। হ্যারির রক্ষণাত্মক ভঙ্গিতে মারা বল ব্যাটে লেগে স্টাম্পের দিকে গেলে তিনি পা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করেও পারেননি, বল স্টাম্পে আঘাত করে।
ভালো শুরু সত্ত্বেও মিডল অর্ডারে আয়ারল্যান্ডের চরম ব্যর্থতা দেখা যায়। পল স্টার্লিং এক প্রান্তে টিকে থাকলেও অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিল শুরু হয়। লরকান টাকার এবং কুর্তিস ক্যাম্পার কেউই দুই অঙ্কের কোটা পার হতে পারেননি। শেষের দিকে জজ ডকরেল (১৯) ও গ্যারেথ ডেলানি (১০) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তাঁরাও ইনিংস বড় করতে পারেননি। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সের ফলে আইরিশদের ইনিংস স্বল্প রানেই গুটিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করে।
