জাপানে তৈরি হয়েছে এক অভিনব প্রযুক্তিপণ্য—যা মানুষের শরীরকে অনেকটা কাপড় ধোয়ার ওয়াশিং মেশিনের মতোই পরিষ্কার করে দেবে। জাপানের প্রযুক্তি কোম্পানি সাইন্স (Science) কর্তৃক উদ্ভাবিত এই ডিভাইসটি ওসাকায় অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড এক্সপো’তে প্রদর্শনের পর এখন বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এই উদ্ভাবনী ডিভাইসটি দেখতে অনেকটা ক্যাপসুল আকৃতির। ব্যবহারকারী এর ভেতরে প্রবেশ করে শুয়ে পড়তে পারবেন। ডিভাইসটির দৈর্ঘ্য ২.৩ মিটার। ভেতরে প্রবেশ করার পর আলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি পুরো শরীর ধোয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।
মেশিনটি শরীর পরিষ্কার করার জন্য ক্ষুদ্রাকৃতির বাবল (ফেনা) এবং সূক্ষ্ম ঝরনা (ফাইন শাওয়ার) প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়াটি শেষ হতে মোট ১৫ মিনিট সময় নেয়। পরিষ্কারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শরীর শুকিয়ে ফেলা শুরু করে, ফলে কোনো তোয়ালে বা কাপড়ের প্রয়োজন হয় না।
এই পরিচ্ছন্নতার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি, ব্যবহারকারী যেন আরাম অনুভব করেন, তার জন্য ভেতরে মৃদু শব্দে গান বাজতে থাকে। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো, ভেতরে থাকা সেন্সরগুলো ব্যবহারকারীর হার্টবিটসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক পর্যবেক্ষণ (ট্র্যাক) করতে থাকে।
উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘সাইন্স’-এর মুখপাত্র সাচিকো মাকোরা এই যন্ত্রটির একটি বিশেষ দিক তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, এই মেশিনটি কেবল মানবদেহকেই পরিষ্কার করে না, বরং এটি “আত্মাকেও ধুয়ে দেয়”। এই কারণেই এটিকে ‘ভবিষ্যতের মানব পরিষ্কারকারী’ বা ‘Future Human Cleaner’ নামেও উল্লেখ করা হচ্ছে। এই অভিনব ধারণার কারণে ওসাকা ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে এটি মানুষের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল। গত অক্টোবরে ছয় মাসব্যাপী এই প্রদর্শনী শেষ হয়।
মানুষের ব্যাপক আগ্রহের কারণে সাইন্স কোম্পানিটি এই মেশিনটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুনত্বের কারণে কোম্পানিটি মাত্র ৫০টি মেশিন বিক্রির জন্য তৈরি করবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জাপান টাইমস জানিয়েছে, একটি মেশিনের দাম প্রায় সাড়ে তিন লাখ ডলার হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার সমান।
প্রথম পণ্যটি কিনেছে ওসাকার একটি হোটেল। তারা এই বিশেষ মেশিনটি তাদের অতিথিদের ব্যবহারের সুযোগ দেবে। এছাড়া, ইলেকট্রনিক্স পণ্যের খুচরা বিক্রেতা ইয়ামাদা ডেনকিও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে এই মেশিন সংগ্রহ করেছে। তারা আগামী ২৫ ডিসেম্বর থেকে এটি প্রদর্শনী শুরু করবে এবং সাধারণ মানুষকে এটির অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগও দেবে।
জাপানের এই অত্যাধুনিক উদ্ভাবনটি স্বাস্থ্যসেবা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ধারণাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার সম্ভাবনা রাখে।
