মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় এক গৃহবধূকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের আব্দুর রহমান বেপারী কান্দি এলাকায় এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন রোকেয়া বেগম (৫৫) নামের এক নারী। এই ঘটনায় নিহতের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বামী আবুল হোসেন মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ। অন্ধ স্বামীর হাতে স্ত্রীর এমন ভয়াবহ মৃত্যুর সংবাদে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঘটনার রাতে রোকেয়া বেগম তার দুই ছেলে আলী হোসেন ও মোহাম্মদ মিয়া এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বামী আবুল হোসেনের সাথে নিজ ঘরেই ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতের কোনো এক সময়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রোকেয়াকে নিজ বিছানায় জবাই করা হয়। নিহতের স্বজনদের দাবি, হত্যার পর আবুল হোসেন মৃধা নিজেই স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।
তবে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি কীভাবে এবং কী কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরবর্তীতে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের কন্যা সালেহা এবং পুত্রবধূ রত্না এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন। তারা জানান, আবুল হোসেন মৃধা দুই বিয়ে করেছিলেন এবং গত ২-৩ বছর ধরে তিনি গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি অনুযায়ী, আবুল হোসেন মাঝে মাঝেই অস্বাভাবিক আচরণ করতেন এবং অনেকটা উন্মাদের মতো কাজ করতেন। যদিও তিনি হত্যার কথা সবার সামনে স্বীকার করেছেন, তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে সরাসরি হত্যা করতে দেখেননি। এমনকি ঘটনার আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো দৃশ্যমান ঝগড়া বা বিবাদও হয়নি বলে তারা দাবি করেছেন।
মাদারীপুরের শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে হত্যার অভিযোগে নিহতের স্বামীকে আটক করা হয়েছে এবং তিনি দায় স্বীকার করেছেন।
তবে ওসি আরও যোগ করেন যে, একজন অন্ধ মানুষের পক্ষে নিখুঁতভাবে এমন কাজ করা বেশ রহস্যজনক মনে হচ্ছে। এটি কেবল মানসিক অসুস্থতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো গভীর কারণ বা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সামাজিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, পরিবারের মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীন সদস্যদের উপযুক্ত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের অভাব অনেক সময় এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মানসিক অসুস্থতা আবুল হোসেনের হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালাচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং আটককৃত ব্যক্তির জিজ্ঞাসাবাদের পর এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য পরিষ্কার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
