পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক আদেশে জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গত ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত সীমানাতেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের এই আদেশের ফলে পাবনার এই দুটি আসনে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে পাবনা-১ নির্বাচনী এলাকা এখন থেকে কেবল সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত হবে। অন্যদিকে, সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার সম্পূর্ণ অংশ নিয়ে পাবনা-২ নির্বাচনী এলাকা গঠিত বলে গণ্য হবে। এর আগে সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, আপিল বিভাগ তা স্থগিত করে এই চূড়ান্ত নির্দেশনা প্রদান করেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার আংশিক এলাকা (চারটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা) বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে যুক্ত করার ইসির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন কমিশনের এই গেজেটকে চ্যালেঞ্জ করে সংক্ষুব্ধ পক্ষ হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে গত ১৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ইসির ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে। হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, সংসদীয় আসন দুটি যেন আগের মতো (পূর্বের সীমানা অনুযায়ী) বহাল রেখে পুনরায় গেজেট প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে নির্বাচন কমিশন। এই আইনি জটিলতার কারণে গত ১০ জানুয়ারি ইসি এক চিঠির মাধ্যমে পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছিল। তবে আজ আপিল বিভাগের শুনানিতে ইসির পক্ষে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরাও তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে ইসির ৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট অনুযায়ী ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেন।
পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত ১৩ জানুয়ারি আপিল বিভাগে একটি আবেদন দাখিল করেছিলেন। তার আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার দোহাই দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হলে ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে। তিনি যথাসময়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা চেয়েছিলেন। আজকের আদেশের পর তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, বিচার বিভাগীয় এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচনী এলাকায় বিরাজমান সংশয় দূর হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আপিল বিভাগের এই আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পরপরই পাবনা-১ ও ২ আসনের স্থগিত করা নির্বাচনী কার্যক্রম পুনরায় সক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে মূল তফশিল রয়েছে, সেই অনুযায়ী এই দুই আসনেও এখন ভোট হবে।
আদালতের আজকের আদেশের প্রেক্ষিতে পাবনার এই দুটি আসনের ভৌগোলিক সীমানা এখন নিম্নরূপ: পাবনা-১ (নির্বাচনী এলাকা-৬৮): কেবল সাঁথিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত। পাবনা-২ (নির্বাচনী এলাকা-৬৯): সুজানগর উপজেলা এবং সমগ্র বেড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত।
এই দুই আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি এবং প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা নিয়ে স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নতুন করে উৎসাহ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে যে, নির্ধারিত সময়ে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে তারা বদ্ধপরিকর এবং মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে।
