আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)। নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’ গঠন করেছে দলটি। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দলের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নবগঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দলের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ভাইস-চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন। অন্যদিকে, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইনকে কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে দলের অন্যতম নেতা মো. ছিদ্দিকুর রহমানকে। নির্বাচনকালীন সময়ে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়, নির্বাচনী প্রচারণা কৌশল নির্ধারণ এবং প্রার্থীদের লজিস্টিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাই হবে এই কমিটির প্রধান কাজ।
দলের জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন যে, এই কমিটির বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবি পার্টি আসন্ন নির্বাচনে জনগণের কাছে তাদের ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’-এর বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। কমিটির আহ্বায়ক লে. কর্নেল (অব.) হেলাল উদ্দিন একজন অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে পরিচিত, যার সামরিক ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নির্বাচনী কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে বলে দল মনে করছে। সদস্য সচিব মো. আলতাফ হোসাইনও দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে ভূমিকা রাখছেন।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে দেশের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি নবগঠিত এই কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে অন্যান্য বড় দলগুলোর মতো এবি পার্টির এই আগাম প্রস্তুতি প্রমাণ করে যে, তারা নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে চায়। নিবন্ধন পাওয়ার পর এটিই হবে দলটির জন্য প্রথম বড় ধরনের নির্বাচনী পরীক্ষা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবি পার্টি তাদের নতুন রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে বেশ আলোচিত হচ্ছে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কি না—সেই প্রশ্নের উত্তর না মিললেও, নির্বাচনী জোট গঠনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সমমনা দলগুলোর সাথে তাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে দলটি এখন মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেবে।
