দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও দেশজুড়ে আসন্ন গণভোটের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কার্যালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিএনপির এই সাক্ষাৎকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দলীয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সিইসি ছাড়াও ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় উপস্থিত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূলত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিবেশ, ভোটার তালিকা, এবং নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি পোস্টাল ব্যালটে রাজনৈতিক দলের প্রতীকের অবস্থান এবং দ্বৈত নাগরিকত্বজনিত কারণে কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া নিয়ে বিএনপির মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেশ করতে পারেন। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি বিএনপির অন্য একটি প্রতিনিধি দল সিইসির সঙ্গে বৈঠক করেছিল, যেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান আসন্ন গণভোটে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। আজকের বৈঠকে সালাহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি মূলত নির্বাচনী মাঠের বাস্তবতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে কমিশনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কমিশনের ভূমিকা এবং বিরোধী দলের প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধের বিষয়টি তাদের আলোচনার প্রধান এজেন্ডা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, কমিশন সবার অংশগ্রহণমূলক ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বদ্ধপরিকর। বিএনপির তোলা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে শোনার পাশাপাশি কমিশন তাদের গৃহীত পদক্ষেপগুলোও প্রতিনিধি দলের সামনে তুলে ধরবে। বর্তমান সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য এই নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ, যেখানে স্বচ্ছতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠক শেষে বিএনপির প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে আলোচনার বিষয়বস্তু ও ফলাফল নিয়ে ব্রিফ করার কথা রয়েছে। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী কার্যক্রম যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে আজকের এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো আগামী দিনের নির্বাচনী লড়াইয়ের রূপরেখা নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
