ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা গেছে। ঋণখেলাপির দায়ে বিএনপি মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক টি এস আইয়ুবের প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আপিলেও বাতিল হয়ে গেছে। তবে বাবার প্রার্থিতা টিকলেও একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়াই করার সুযোগ ফিরে পেয়েছেন তাঁর ছেলে ফারহান সাজিদ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে এই সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশন উভয় পক্ষের যুক্তি পর্যালোচনা শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
যশোর-৪ আসনে বিএনপির প্রধান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন টি এস আইয়ুব। তবে যাচাই-বাছাইয়ের শুরুতেই তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ ওঠে। ঢাকা ব্যাংকের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দেওয়া এক দাপ্তরিক চিঠিতে জানানো হয় যে, টি এস আইয়ুব ‘সাইমেক্স লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ঋণের দায়বদ্ধতায় রয়েছেন এবং তাঁর নাম ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে টি এস আইয়ুব নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে আজ শুনানি শেষে কমিশন তাঁর আবেদনটি নামঞ্জুর করে। এর ফলে এই আসনে বিএনপির মূল প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আইনগত অনিশ্চয়তা তৈরি হলো।
অন্যদিকে, আইয়ুবের ছেলে ফারহান সাজিদ এই একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। প্রাথমিক বাছাইয়ে তাঁর জমা দেওয়া ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের তালিকায় গরমিল পাওয়া যায়। রিটার্নিং কর্মকর্তা দৈবচয়ন ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের স্বাক্ষর যাচাই করতে গিয়ে একজনের তথ্যে অমিল পাওয়ায় ফারহান সাজিদের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।
তবে হাল ছাড়েননি ফারহান। তিনি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আজকের শুনানিতে তিনি তথ্য-প্রমাণসহ নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলে কমিশন সন্তুষ্ট হয়ে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে। এর ফলে বাবার প্রার্থিতা বাতিল হলেও ছেলে এখন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে রইলেন।
যশোর-৪ আসনে টি এস আইয়ুবের মতো জনপ্রিয় নেতার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা দেখা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইয়ুবের ছেলে ফারহান সাজিদ প্রার্থী হিসেবে টিকে যাওয়ায় পরিবারের পক্ষ থেকে নির্বাচনি মাঠ ধরে রাখার একটি সুযোগ তৈরি হলো। আসনটিতে বিএনপি থেকে আরও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং অভয়নগর উপজেলা শাখার সভাপতি মতিয়ার ফারাজী।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোর-৪ আসনে এখন বহুমুখী লড়াইয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফারহান সাজিদ বাবার অনুসারীদের সমর্থন কতটুকু নিজের পক্ষে টানতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
