মিয়ানমারে সামরিক জান্তা পরিচালিত সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট শেষে বড় ধরনের জয়ের দাবি করেছে সেনাবাহিনী সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দলটির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ এবং সামরিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী করার একটি সাজানো কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রায় পাঁচ বছর পর এই নির্বাচনের আয়োজন করল জান্তা সরকার। তবে চলমান গৃহযুদ্ধ এবং দেশের বড় একটি অংশ বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকায় পুরো দেশে একযোগে ভোট না করে তিনটি ধাপে নির্বাচনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, রোববার (১১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ভোটে ইউএসডিপি অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল: এদিন ১০০টি আসনের মধ্যে ৮৭টিতেই জয় পেয়েছে তারা। বিশেষ করে ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টিতেই জয় নিশ্চিত করেছে জান্তাপন্থি এই দলটি। সু চির আসনে জয়: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ইয়াঙ্গুন অঞ্চলের কাউহমু (Kawhmu) আসনে ইউএসডিপি জয় দাবি করেছে, যা আগে গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চির আসন ছিল।
সামগ্রিক অবস্থান: প্রথম ধাপের বিশাল জয়ের সাথে দ্বিতীয় ধাপের ফল যোগ করলে বর্তমানে নিম্নকক্ষে ইউএসডিপির আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৬টি। ৩৩০টি নির্বাচিত আসনের মধ্যে এটি ইতিমধ্যে অর্ধেকের বেশি।
জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক দেশ এই নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক টম অ্যান্ড্রুজ এই প্রক্রিয়াকে “সাজানো নির্বাচন” বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসিকে (এনএলডি) বিলুপ্ত করা এবং অধিকাংশ বিরোধী নেতাকে কারাগারে রেখে এই ভোট মূলত সামরিক বাহিনীর আধিপত্য বৈধ করার একটি হাস্যকর প্রচেষ্টা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউএসডিপির অধিকাংশ নেতা সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হওয়ায় দলটিকে সেনাবাহিনীর একটি ‘প্রক্সি’ বা ছায়া রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখা হয়। এছাড়া মিয়ানমারের সংবিধানে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ (১১০টি) আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকায়, ইউএসডিপির এই জয় কার্যত সংসদকে পুরোপুরি সামরিক নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাবে।
মিয়ানমারের এই তিন ধাপের নির্বাচনের শেষ তথা তৃতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৫ জানুয়ারি। যদিও দেশটির অন্তত ৬৫টি টাউনশিপে গৃহযুদ্ধের কারণে কোনো ভোট হচ্ছে না। আগামী মার্চ মাসে নতুন সংসদ অধিবেশন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ধারণা করা হচ্ছে, সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং সামরিক ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়ে নতুন সরকারে সিভিলিয়ান বা বেসামরিক পোশাকে ‘প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। যদিও তিনি সরাসরি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি, তবে নির্বাচনে সিভিল সার্ভেন্ট এবং সামরিক পরিবারের সদস্যদের জান্তাপন্থি প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
