ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় জুটমিলের শ্রমিকবাহী একটি পিকআপ দুমড়েমুচড়ে গেছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রেললাইনের বোয়ালমারী পৌর সদরের সোতাশি গ্রাম এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহতরা সবাই স্থানীয় জনতা জুটমিলের শ্রমিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বিলকরাইল গ্রামের ছায়ফার মোল্যার দুই ছেলে মো. জব্বার মোল্যা ও মো. মুছা মোল্যা এবং একই গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী জাহানারা বেগম। দুই সহোদরসহ তিন গ্রামবাসীর এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ডোবরা এলাকায় অবস্থিত জনতা জুটমিলের কাজ শেষ করে প্রায় ১৫ জন শ্রমিক একটি পিকআপ ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে পিকআপটি সোতাশি এলাকার একটি অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে ভাটিয়াপাড়াগামী লোকাল ট্রেনটি সেখানে চলে আসে। মুহূর্তের মধ্যে দ্রুতগতির ট্রেনটি পিকআপ ভ্যানটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়ে।
বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন। স্থানীয়রা জানান, ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেতরে থাকা শ্রমিকরা রক্তাক্ত অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বোয়ালমারী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আহত ১০ জনকে উদ্ধার করে দ্রুত বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ৫ জন বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান এবং থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া রুটের সোতাশি নামক স্থানে একটি অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনের ধাক্কায় পিকআপটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। আমরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রেললাইনের ওই অংশটি অরক্ষিত থাকায় এবং কোনো গেটম্যান না থাকায় প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। তারা দ্রুত ওই স্থানে রেলগেট নির্মাণ ও জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।
