দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানিকারকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণ (সাপ্লায়ার্স বা বায়ার্স ক্রেডিট) সুবিধা আগের চেয়ে অনেক সহজে ভোগ করতে পারবেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক জরুরি প্রজ্ঞাপনে এই নীতিমালার কথা জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক বা বিশাল পরিমাণে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে তা সিলিন্ডারে ভরে বাজারজাত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় মজুতকরণ, সিলিন্ডারজাতকরণ এবং সরবরাহ চেইনের অন্যান্য কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য সময় ও বিপুল মূলধনের প্রয়োজন হয়। তাই বাজারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং আমদানিকারকদের তারল্য সংকট কাটাতে এখন থেকে এলপিজিকে বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে ‘শিল্প কাঁচামাল’ হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো পণ্য শিল্প কাঁচামাল হিসেবে স্বীকৃত হলে তা আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন বা ৯ মাস পর্যন্ত সরবরাহকারী বা ক্রেতার ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে এলপিজি আমদানিকারকরা ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে বা ঋণের মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন। এর আগে এই সময়সীমা অনেক কম থাকায় আমদানিকারকদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হতো, যার প্রভাব পড়ত সরাসরি খুচরা বাজারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে, তারা যেন বিদেশি ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানিকারকদের জন্য ‘বায়ার্স ক্রেডিটের’ ব্যবস্থা সুগম করে। এ ছাড়াও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ‘বিল ডিসকাউন্টিং’ সুবিধাও প্রদান করা যাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকারকদের তাৎক্ষণিক ডলারের সংস্থান করার চাপ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে আমদানিতে সমস্যার কারণে বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার নির্ধারিত দরের তোয়াক্কা না করে সিলিন্ডার প্রতি ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দাম আদায় করার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় রান্নাবান্না যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের এই ভোগান্তি নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাত সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এলপিজি আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদী ঋণের এই সুযোগ সিলিন্ডারের মজুদ বাড়াতে সহায়তা করবে। এতে করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ কমবে এবং আমদানিকারকরা বিশ্ববাজার থেকে সুবিধাজনক সময়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মানদণ্ড অনুযায়ী, জ্বালানি খাতকে এমন বিশেষ সুবিধা প্রদান করায় দেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজতর হবে।
