আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো একটি চিঠির বরাত দিয়ে আজ সোমবার বিকেলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনটি চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন। বাফুফে ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন এবং আইসিসির দেওয়া শর্তগুলোকে ‘উদ্ভট ও অযৌক্তিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ভারতে না খেলার সিদ্ধান্তে পুনরায় অনড় অবস্থানের কথা জানান।
আসিফ নজরুলের বক্তব্য অনুযায়ী, আইসিসি তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে যে ভারতে ৩টি বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে: ১. মুস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি: যদি বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হয়, তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে।
২. সমর্থকদের জার্সি পরিধান: বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি জাতীয় দলের জার্সি পরে ভারতের রাস্তায় বা স্টেডিয়ামে চলাফেরা করেন, তবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে। ৩. জাতীয় নির্বাচন: বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশ দলের ওপর হামলার বা নিরাপত্তার ঝুঁকি তত বাড়বে।
আইসিসির এই পর্যবেক্ষণগুলোকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “আইসিসি নিরাপত্তা দলের এই পর্যবেক্ষণই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, ভারতে গিয়ে বাংলাদেশের খেলার মতো নিরাপদ পরিবেশ নেই। আমরা আমাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গড়ব, আমাদের সমর্থকরা জার্সি পরতে পারবে না—এমন উদ্ভট ও অবাস্তব শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের অবস্থান যৌক্তিক ছিল বলেই আজ এটি প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং জাতীয় মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কটি মূলত আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে তাকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল, যেখানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছিল বলে দাবি করে বিসিবি।
সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান যে, ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলতে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। সম্প্রতি পাকিস্তানও বাংলাদেশের ম্যাচগুলো আয়োজন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভারতের বাইরে যেকোনো দেশে খেলতে আমাদের আপত্তি নেই।” আসিফ নজরুল আরও নিশ্চিত করেন যে, আইসিসি থেকে পাওয়া এই ‘নিরাপত্তা শঙ্কার’ চিঠিটি দ্রুতই সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করা হবে।
এই পরিস্থিতির ফলে বিপিএল চলার মাঝেই দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র উত্তজনা বিরাজ করছে। আইসিসি যদি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের দাবি মেনে না নেয় এবং বিসিবি যদি ভারতে দল না পাঠায়, তবে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে পয়েন্ট হারানোর বা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে সরকারের বর্তমান অনমনীয় মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়।
