ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের কাছাড় জেলায় আকাশ থেকে নেমে আসা একটি বিশালাকৃতির গ্যাস বেলুনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে সীমান্তবর্তী কাছাড় জেলার একটি কৃষিজমিতে বেলুনটি পাওয়া যায়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেলুনটি বাংলাদেশের সিলেট জেলা থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে সেখানে গিয়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং ভারতীয় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কাছাড় জেলা পুলিশের তথ্যমতে, রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলার বরখোলা এলাকার মাসিমপুর সুবেদারবস্তি গ্রামের একটি মাঠে স্থানীয়রা অস্বাভাবিক বড় এই বেলুনটি দেখতে পান। বেলুনটির গায়ে বাংলাদেশের সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ‘ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়’-এর নাম ও মনোগ্রাম লেখা ছিল।
এছাড়া বেলুনটিতে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান পর্যন্ত বিশেষ অবদান রাখা তিনজন ব্যক্তির ছবি এবং বাংলায় কিছু তথ্য উল্লেখ ছিল। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়রা সেটিকে কোনো সন্দেহভাজন বস্তু মনে করে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (ভিডিপি) অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেলুনটি নিজেদের জিম্মায় নেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৯ ও ১০ জানুয়ারি সিলেটের ঘিলাছড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ‘৬৫ বছর পূর্তি উৎসব’ (নীলা জয়ন্তী) এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান ছিল। এই আয়োজনের অংশ হিসেবে একটি বিশাল গ্যাস বেলুন রশি দিয়ে উড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বাতাসের তীব্রতায় শনিবার বেলুনটির রশি ছিঁড়ে যায় এবং এটি দিকভ্রষ্ট হয়ে আকাশপথে সীমান্ত অতিক্রম করে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিলেটের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বেলুনটি আসামের শিলচর ও কাছাড় জেলা এলাকায় পৌঁছে যায়।
কাছাড় জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার (এসএসপি) পার্থ প্রতীম দাস ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুব্রত সেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সুপার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বেলুনটি নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং এতে কোনো ক্যামেরা, ড্রোন বা সন্দেহজনক সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি।
এটি মূলত একটি স্কুল উৎসবের অংশ ছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে একটি বেসামরিক বেলুন কীভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করল এবং এতে কোনো নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি রুটিন তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, মাসিমপুর এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিএসএফের (কাছাড়-মিজোরাম ফ্রন্টিয়ার) সদর দফতর থাকায় বিষয়টি নিয়ে শুরুতে প্রশাসনের মধ্যে বাড়তি উদ্বেগ কাজ করছিল। তবে বিদ্যালয়ের নাম ও উৎসবের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সিলেটের ঘিলাছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের উৎসব কমিটির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, উদযাপনের আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই বেলুনটি ওড়ানো হয়েছিল, যা দুর্ঘটনাবশত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে গেছে।
