বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলিং আক্রমণের প্রধান অস্ত্র তাসকিন আহমেদকে নিয়ে তৈরি হয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা। হাঁটুর ইনজুরির কারণে বর্তমানে মাঠের বাইরে রয়েছেন এই তারকা পেসার।
গতকাল রোববার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে একাদশে দেখা যায়নি, যা ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। তবে ঢাকা ক্যাপিটালস কর্তৃপক্ষ ও বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, তাসকিনের চোট গুরুতর না হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
সিলেট পর্বে নোয়াখালীর বিপক্ষে ঢাকা ক্যাপিটালস বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর তাসকিনের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দলের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন জানিয়েছিলেন যে, তাসকিন বর্তমানে দলের সাথে সিলেটে নেই। ফিজিওর পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসা ও পরীক্ষার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে, ঢাকার একটি হাসপাতালে তাসকিনের হাঁটুর প্রয়োজনীয় স্ক্যান সম্পন্ন করা হয়েছে।
বিসিবির মেডিকেল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্ক্যান রিপোর্টে বড় কোনো ঝুঁকির আলামত পাওয়া যায়নি। তবে তাসকিনের হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর লক্ষ্যে তাকে আগামী ৫ দিনের জন্য পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ জানুয়ারি পুনরায় তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ওই পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে যে তিনি কবে নাগাদ প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন।
তাসকিনকে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও জাতীয় দল—উভয় পক্ষই অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের পেস আক্রমণের এই মূল স্তম্ভকে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ বিসিবির চিকিৎসকরা।
ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মিঠুনও একই সুর মিলিয়ে বলেন, “আসলে তাসকিনের হাঁটুতে কিছুটা অস্বস্তি হচ্ছে। আমি যতটুকু জানি, বিপিএলের ঢাকা পর্ব থেকে তার পুনরায় মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সবটুকুই নির্ভর করছে ফিজিওর চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর।”
চলতি বিপিএলে তাসকিনের অভাব ঢাকা ক্যাপিটালস হারে হারে টের পাচ্ছে। তার গতি ও সুইং প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখতে বড় ভূমিকা পালন করছিল। দলের মেডিকেল টিমের আশা, ৫ দিনের এই সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম তাসকিনকে পুরোপুরি ফিট হতে সাহায্য করবে।
বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টের কথা মাথায় রেখে তাকে হয়তো বিপিএলের আগামী কয়েক ম্যাচে সীমিত ওভার বল করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে অথবা পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রাম দীর্ঘায়িত হতে পারে। আপাতত ক্রিকেট ভক্তদের নজর এখন ১৫ জানুয়ারির পর্যবেক্ষণের দিকে।
