বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ইতিহাস বিকৃত করার শত চেষ্টা সত্ত্বেও সত্যকে কখনো ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না। দীর্ঘ রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বেগম খালেদা জিয়া আজ কেবল দেশের সীমানায় নয়, বরং বিশ্বজুড়ে এক অনন্য মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক শোক সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয়তাবাদী নবীন দল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেলিমা রহমান বলেন, “যাকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, আজ সেই বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বব্যাপী সম্মানের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তিনি ক্ষমতা বা রাষ্ট্রীয় অলংকারে ভূষিত না থেকেও মানুষের হৃদয়ে যে সর্বোচ্চ আসন লাভ করেছেন, তার কবরে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ঢলই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।”
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণকে একটি ‘মহাকালের পতন’ এবং ‘মহান অধ্যায়ের সমাপ্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক আকাশ থেকে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র আজ ঝরে পড়েছে। এটি আমাদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তবে তিনি আমাদের চোখের আড়ালে চলে গেলেও তার আপসহীন আদর্শ, সাহসী চিন্তা ও গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের মননে চিরকাল দীপ্ত হয়ে জ্বলবে। সেই আদর্শ থেকেই আমরা আগামী দিনের লড়াইয়ের সাহস ও প্রেরণা সংগ্রহ করছি।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে অবিচল রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকার হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত। দেশনেত্রীর প্রয়াণের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে সেলিমা রহমান বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। সেই ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণেই তাকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়েছিল। তার শাহাদাতের পর দেশ ও গণতন্ত্রের প্রয়োজনে কোনো পারিবারিক পিছুটান না রেখে রাজনীতিতে এসেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি কখনোই ব্যক্তিগত ক্ষমতার মোহে রাজনীতি করেননি; বরং গণতন্ত্রের সুরক্ষা ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তার রাজনৈতিক জীবনের মূলমন্ত্র।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “প্রকৃত সংস্কারের সূচনা হয়েছিল শহীদ জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচির মাধ্যমেই। পরবর্তীতে সেই ধারাবাহিকতায় বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন’ এবং বর্তমানে তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঘোষিত ‘রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা’ দেশ গঠনের মূল হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।”
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সফি, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাবেক সংসদ সদস্য নূর আফরোজ জ্যোতি এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা প্রত্যেকেই মরহুমার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তার অবদানের ওপর আলোকপাত করেন।
