বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে উড়ন্ত সূচনার পর হঠাতই ছন্দপতনের মুখে পড়েছে রংপুর রাইডার্স। টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকার ইঙ্গিত দিলেও, টানা তিন ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেল নুরুল হাসান সোহানের নেতৃত্বাধীন দলটি। আজ দিনের প্রথম ম্যাচে সিলেট টাইটানসের কাছে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়ে হ্যাটট্রিক হারের বৃত্তে বন্দি হলো উত্তরবঙ্গের এই শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
সিলেটের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে রংপুর রাইডার্স। দুই ওপেনার কাইল মায়ার্স ও তাওহীদ হৃদয় ইনিংসের মাত্র দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফেরেন। নাসুম আহমেদের ঘূর্ণিতে মায়ার্স কোনো রান না করেই বিদায় নেন এবং দলীয় মাত্র ৬ রানে শহীদুলের বলে আউট হন হৃদয়। এরপর অভিজ্ঞ লিটন দাস ক্রিজে এসে ১২ বলে ২২ রানের একটি ছোটো ঝড় তোলার চেষ্টা করলেও ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ হন। পাওয়ার প্লে শেষে ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম চাপের মুখে পড়ে রংপুর।
রংপুরের ইনিংসের হাল ধরার চেষ্টা করেছিলেন ইফতিখার আহমেদ ও খুশদিল শাহ। ইফতিখার ১৭ রান করে দলীয় ৭৬ রানে বিদায় নিলে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হতে শুরু করে। এরপর রংপুরের ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামে। ১৬তম ওভারে নাসুম আহমেদের টানা দুই বলে উইকেট হারানো রংপুর এক পর্যায়ে ৯৬ রানেই ৯ উইকেট খুইয়ে বসে। শেষ দিকে অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ২৯ রানের লড়াই না করলে একশ রানের কোটা পার করাও সম্ভব হতো না তাদের জন্য।
শেষ পর্যন্ত সালমান ইর্শাদের বলে মাহমুদউল্লাহ আউট হলে ১১৪ রানে থামে রংপুরের ইনিংস। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন খুশদিল শাহ। সিলেটের পক্ষে বল হাতে মঈন আলী দুর্দান্ত স্পেল উপহার দিয়ে ৪ ওভারে মাত্র ৮ রান খরচায় ২ উইকেট নেন। এছাড়া নাসুম আহমেদ ও শহীদুল ইসলাম প্রত্যেকে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন।
১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটানস শুরু থেকেই মারকুটে মেজাজে ব্যাটিং করে। ওপেনিং জুটিতে তৌফিক খান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৫৪ রান তুলে জয়ের পথ সহজ করে দেন। তৌফিক মাত্র ২২ বলে ৩৩ রান করে বিদায় নিলেও অপরপ্রান্তে ধৈর্যশীল ব্যাটিং করেন ইমন।
এছাড়া আরিফুল ইসলাম ২১ ও আফিফ হোসেন ১২ রান করে আউট হন। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন পারভেজ ইমন। ৪১ বলে ৫২ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তিনি। অভিজ্ঞ মঈন আলী উইকেটে উপস্থিত থাকলেও তাকে কোনো বল মোকাবিলা করতে হয়নি।
এই পরাজয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের সমীকরণ রংপুরের জন্য অনেকটা কঠিন হয়ে উঠল। টুর্নামেন্টের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও হুট করে দলের এমন নড়বড়ে পারফরম্যান্স দুশ্চিন্তায় ফেলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষকে। অন্যদিকে, নিজেদের মাঠে দারুণ জয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে সিলেট টাইটানস।
রংপুরের মতো ভারসাম্যপূর্ণ দল কেন টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলো, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মাঝে চলছে নানামুখী বিশ্লেষণ। বিশেষ করে টপ অর্ডারের ব্যর্থতা এবং পাওয়ার প্লে-তে দ্রুত উইকেট হারানোই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
