টেলিভিশন পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় ও আদর্শ দম্পতি হিসেবে পরিচিত জয় ভানুশালী ও মাহি বিজের দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের সংসার জীবনের অবসান ঘটেছে চলতি বছরের শুরুতেই। বিনোদন জগতের এই তারকা জুটির বিচ্ছেদের খবর ভক্তদের জন্য ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তবে বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন মাহি বিজ। জনপ্রিয় প্রযোজক ও বলিউড অভিনেতা সালমান খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু নাদিম নাদজেরের সঙ্গে মাহির একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টকে কেন্দ্র করে এখন উত্তাল নেটদুনিয়া।
সম্প্রতি মাহি বিজ তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রযোজক নাদিমের সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ করেছেন। তবে কেবল ছবিই নয়, সেই ছবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া আবেগঘন ক্যাপশনটিই মূলত সন্দেহের বীজ বপন করেছে নেটিজেনদের মনে। নাদিমকে উদ্দেশ্য করে মাহি লিখেছেন যে, তিনি কেবল তার একজন প্রিয় বন্ধুই নন, বরং তার প্রশান্তি, শক্তি এবং পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অভিনেত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, নাদিমের সান্নিধ্যে তিনি নিজের প্রকৃত সত্তাকে খুঁজে পান এবং তাদের উভয়ের আত্মা একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। বিচ্ছেদের ঘোষণার ঠিক পরপরই এমন সংবেদনশীল এবং গভীর অর্থবহ বার্তা নতুন কোনো সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
এই পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জয় ভানুশালীর দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক ও সজ্জন’ ভাবমূর্তির কারণে ভক্তদের একটি বড় অংশ মাহির ওপর ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন।
অনেক নেটিজেনের দাবি, জয় ও মাহির দীর্ঘদিনের স্থিতিশীল সংসারে ভাঙনের নেপথ্যে সম্ভবত তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি ছিল। নাদিমের সঙ্গে মাহির এই বর্তমান ঘনিষ্ঠতাকে অনেকেই সেই সন্দেহের যোগসূত্র হিসেবে দেখছেন। যদিও মাহি সরাসরি কোনো নতুন সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি, তবে নিন্দুকেরা এই বিচ্ছেদের জন্য পরোক্ষভাবে তাকেই দায়ী করছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের শুরুতে যখন জয় ও মাহি তাদের বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছিলেন যে তাদের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষ বা নেতিবাচক কারণ নেই। তারা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং তাদের তিন সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি এবং মাহির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সেই বিবৃতির সত্যতা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিনোদন সংবাদ সংস্থাগুলোর আদলে বলা যায়, তারকার ব্যক্তিগত জীবনের এই জটিল সমীকরণ এখন কেবল তাদের নিজস্ব গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সাধারণ দর্শক ও অনুরাগীদের মাঝে তীব্র বিতর্কের খোরাক জোগাচ্ছে।
