বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক স্টেট সেক্রেটারি মি. অ্যালবার্ট টি. গম্বিসের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোটের প্রাক্কালে এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. মোর্স এইচ. ট্যান, নর্থ আমেরিকার মুসলিম উম্মাহর সেক্রেটারি জেনারেল ও চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট ফার্মের পরিচালক আরমান চৌধুরী এবং নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ফয়সাল আলম।
বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে দলের শীর্ষ পর্যায়ের একঝাঁক নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন: সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ড. জুবায়ের আহমদ, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানছুর এবং ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম। ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম।
আলোচনার মূল বিষয়বস্তু: অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধানত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে: ১. রাজনৈতিক পরিস্থিতি: বাংলাদেশে বর্তমানে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং জুলাই পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। ২. নির্বাচন ও গণভোট: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদের আইনি বৈধতা নিশ্চিতকল্পে আয়োজিত গণভোট নিয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেন। স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে জামায়াতের অবস্থান সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করা হয়। ৩. দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় এবং কার্যকর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎ শেষে জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে এই আলোচনায়। মার্কিন প্রতিনিধি দলও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে তাদের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
