পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যদ্রব্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ১৯ জানুয়ারি এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভার আহ্বান করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। রমজানে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নাগালে রাখা এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রুখতে এই সভাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, আসন্ন রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে সকল অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে পণ্যের চাহিদা, মজুত পরিস্থিতি এবং আমদানির বর্তমান অবস্থা বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “আমরা ১৯ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে একটি সভার ডাক দিয়েছি। বাজার পরিস্থিতি এবং পণ্য সরবরাহের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনার পর আমরা আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে জানাতে পারব।” সরকার চায় রমজান শুরুর আগেই বাজারে যাতে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কিছুটা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রভাব দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে পড়বে কি না— সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত আমরা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেখছি না। সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে এর কোনো বড় ধরণের ছাপ পড়ার আশঙ্কা এই মুহূর্তে নেই।” বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ চাপ অনুভব করছেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি সরাসরি ‘না’ সূচক জবাব দেন।
দেশের আমদানিনীতি আধুনিকায়ন এবং ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও এদিন সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে। উপদেষ্টা জানান, বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশ (২০২১-২৪) সংশোধন করে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন নীতিমালায় বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হচ্ছে যার মূল লক্ষ্য হলো আমদানি প্রক্রিয়াকে আরও উদার ও সহজতর করা। তিনি বলেন, “আমরা আমদানি নীতি আদেশ বা আইপিও অর্ডারকে ব্যবসায়ীবান্ধব করার চেষ্টা করছি। আজ বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে এই বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুতই খসড়াটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উত্থাপন করা হবে।”
একই প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বিশ্ববাণিজ্যের আধুনিক ধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্য নীতির পরতে পরতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ‘ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন এগ্রিমেন্ট’-এ স্বাক্ষর করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ এখন সময়ের দাবি। নতুন আমদানি নীতি আদেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আমদানিকারকদের জন্য প্রক্রিয়াগুলো আরও গতিশীল করা হবে, যা সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি অংশ বাজারে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে। সরকারের এই আগাম প্রস্তুতি এবং আমদানিনীতি সহজ করার উদ্যোগ সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ১৯ জানুয়ারির সভায় চিনির শুল্ক সমন্বয়, ভোজ্য তেলের মজুত এবং ডাল ও ছোলার পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
