আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিচিত মুখ এবং ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার মঈন আলি মনে করেন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে বর্তমানে মানসম্পন্ন ক্রিকেটারের সংখ্যা বাড়লেও ‘বিশ্বমানের’ এবং ‘লড়াকু’ চরিত্রের খেলোয়াড়ের অভাব প্রকট। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলতে বাংলাদেশে অবস্থান করা এই ইংলিশ তারকা শনিবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দেশের ক্রিকেটের বর্তমান এবং অতীতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। সিলেট টাইটান্সের জার্সিতে বিপিএল মাতানো মঈন আলির মতে, এক সময় বাংলাদেশ দলে এমন কিছু ক্রিকেটার ছিলেন যারা একক নৈপুণ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারতেন, যা বর্তমান দলে অনেকটা অনুপস্থিত।
মঈন আলি তার পর্যবেক্ষণে বিশেষভাবে তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসানের নাম উল্লেখ করেন। তিনি মনে করেন, এই দুই ক্রিকেটার কেবল প্রতিভার বিচারেই বিশ্বমানের ছিলেন না, বরং তাদের খেলার ধরন এবং লড়াকু মানসিকতা ছিল অনন্য। মঈন আলির ভাষায়, “আমার মনে হয় আগে বাংলাদেশ দলে অন্তত দুই থেকে তিনজন এমন ক্রিকেটার ছিল যারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিল। বিশেষ করে তামিম এবং সাকিবের কথা বলতেই হয়। তারা শুধু বড় মাপের খেলোয়াড়ই ছিল না, তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং লড়াই করার মানসিকতা ছিল শিক্ষণীয়। দীর্ঘ সময় ধরে এই মানের ক্রিকেটারদের পাওয়া যেকোনো দলের জন্যই বড় সৌভাগ্যের বিষয়।”
বর্তমান বাংলাদেশ দলের শক্তিমত্তা নিয়ে মঈন আলির বিশ্লেষণ কিছুটা ভিন্ন। তিনি মনে করেন, এখনকার দলে প্রতিভাবান বা ভালো মানের ক্রিকেটারের সংখ্যা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি হলেও, সেই উচ্চস্তরের বা ‘এলিট’ শ্রেণির ক্রিকেটারের অভাব রয়ে গেছে। তার মতে, বর্তমান ক্রিকেটাররা একটি নির্দিষ্ট মান পর্যন্ত ভালো খেলছেন, কিন্তু সাকিব-তামিমদের মতো বিশ্বমানের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছেন না। এই অভাবটিই বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রযাত্রার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
তবে আধুনিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের প্রশংসা করতে ভোলেননি মঈন। মুস্তাফিজকে তিনি বিশ্বমানের বোলার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও দলের সামগ্রিক মানসিক অবস্থার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অবশ্যই মুস্তাফিজ একজন বিশ্বমানের বোলার, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে দীর্ঘ সময় ধরে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। তবে একটি দলের উন্নতির জন্য শুধু দক্ষতা নয়, শক্তিশালী চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যেরও প্রয়োজন হয়। সত্য বলতে গেলে, বাংলাদেশ দল ঠিক সেই জায়গাটিতেই কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। অবকাঠামো বা অন্য দিক থেকে উন্নতি হলেও মানসিক দৃঢ়তার অভাব স্পষ্ট।”
মঈন আলির এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এল যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করলেও বিশেষ করে চাপের মুখে মানসিকভাবে শক্ত থাকার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি। সাবেক তারকা ক্রিকেটারদের যে মানসিক শক্তি এবং জয়ের ক্ষুধা ছিল, বর্তমান প্রজন্মের মাঝে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞ এই খেলোয়াড়ের সুচিন্তিত মতামত বাংলাদেশ ক্রিকেটের নীতিনির্ধারক ও খেলোয়াড়দের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
