পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন প্রকৃতির এই হিমেল পরশ থেকে মুক্তি পেতে এক ভিন্নধর্মী উপায় বেছে নিয়েছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। আধুনিক ড্রয়িংরুমের বিলাসবহুল আসবাব ও যান্ত্রিক উষ্ণতা ছেড়ে জয়া এখন সময় কাটাচ্ছেন গ্রামীণ আবহের মাটির রান্নাঘরে। কনকনে ঠান্ডায় মাটির চুলার আগুনের ওম আর ধোঁয়া ওঠা রান্নার মাঝেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন পরম প্রশান্তি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের যাপিত জীবনের একটি ঘরোয়া ভিডিও শেয়ার করেছেন জয়া আহসান, যা মুহূর্তেই নেটিজেনদের নজরে কেড়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে জয়া সব রকমের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার পরনে রয়েছে গাঢ় রঙের মোটা জ্যাকেট, মাথায় পশমি টুপি এবং পায়ে মোজা। এত প্রস্তুতি সত্ত্বেও শীতের তীব্রতায় তাকে বেশ জবুথবু দেখায়। ভিডিওর একপর্যায়ে তাকে দেখা যায় একটি মাটির চুলার পাশে বসে রান্না করতে, যা তার ভক্তদের জন্য ছিল এক বড় চমক।
ভিডিওতে হাস্যোজ্জ্বল মুখে জয়া আহসান তার শীতকালীন এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “চতুর্দিকে প্রচণ্ড ঠান্ডা, বাইরে বের হওয়া তো দূরে থাক ঘরের অন্য কোথাও আমি বসতে পারছি না। শুধু এই রান্নাঘরটিই এখন আমার একমাত্র ভরসা। এখানে বসে আগুনের তাপ নিতে নিতে রান্না করাটা যে কী আরামদায়ক, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। মাটির চুলাতে আগুনের এই ওম আমাকে দারুণ শান্তি দিচ্ছে।”
নিজের রান্নার হাত নিয়ে কিছুটা বিনয় প্রকাশ করে এই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী আরও বলেন, “সত্যি বলতে আমি খুব একটা ভালো রান্না পারি না। আমাদের বাড়িতে এই মাটির ঘরটি মূলত শখের বসে করা। এখানে অনেকগুলো মাটির চুলা রয়েছে। আমি শুধু টুকটাক কিছু পদ তৈরির চেষ্টা করছি। তবে মাটির চুলার রান্নার স্বাদই আলাদা, খেতেও অনেক মজা হয়।”
ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগীদের প্রশংসায় ভাসছেন জয়া। দুই বাংলার শীর্ষস্থানীয় অভিনেত্রী হওয়া সত্ত্বেও সাধারণ জীবনযাপন এবং শেকড়ের প্রতি তার এই গভীর মমতা ও টান দেখে মুগ্ধ হয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে, জয়া আহসানের এই ঘরোয়া রূপ প্রমাণ করে যে শৈশবের স্মৃতি আর গ্রামীণ ঐতিহ্য সবসময়ই মানুষের মনে এক বিশেষ স্থান দখল করে থাকে। অনেকে আবার তীব্র শীতে মাটির চুলার পাশে বসে কাটানো নিজেদের হারানো দিনের স্মৃতিও রোমন্থন করেছেন জয়ার এই ভিডিও দেখে।
পর্দার জাঁকজমকপূর্ণ জীবনের বাইরে জয়া যে একজন সাধারণ আটপৌরে বাঙালি নারী, শীতের এই অলস দুপুরে তার সেই চিরচেনা রূপটিই ফুটে উঠেছে। বর্তমানে অভিনয়ের ব্যস্ততার ফাঁকে এই অবকাশ যাপন তাকে নতুন করে প্রাণশক্তি যোগাচ্ছে। জয়া আহসানের এমন স্নিগ্ধ ও স্বাভাবিক উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করল যে, প্রকৃত সুখ আসলে সাধারণ বিষয়ের মাঝেই লুকিয়ে থাকে।
