সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই মাত্র ২৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই সপ্তম ওভারের মধ্যে আরও দুটি মূল্যবান উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারে চলে যায় তারা। ৪ উইকেটে ৪৬ রান তুলে যখন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার স্বপ্ন দেখছিল নোয়াখালী, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন নাসুম আহমেদ। তার বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে শেষ ৬টি উইকেট হারায় তারা।
সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলতে নামা নাসুম আহমেদ আজ যেন অসাধ্য সাধনে নেমেছিলেন। ইনিংসের ১১তম ওভারে পাকিস্তানি রিক্রুট হায়দার আলীকে সাজঘরে ফিরিয়ে নিজের শিকার শুরু করেন তিনি। তবে আসল চমকটা জমা ছিল ১৩তম ওভারের জন্য। নিজের শেষ ওভার করতে এসে নাসুম প্রথম দুই বলে মেহেদী হাসান রানা ও জহির খানকে আউট করে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলেন। যদিও পরের বলে বিলাল সামি হ্যাটট্রিক রুখে দেন, কিন্তু এক বল বিরতি দিয়ে তাকেও প্যাভিলিয়নের পথ ধরান নাসুম।
অবিশ্বাস্য এই স্পেলে নাসুম মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে তুলে নেন ৪টি উইকেট। নির্ধারিত ৪ ওভার বোলিং করে ১টি মেইডেনসহ মাত্র ৭ রান খরচায় ৫ উইকেট পকেটে পুরেন তিনি। বিপিএলের ইতিহাসে এটি অন্যতম সেরা মিতব্যয়ী ও কার্যকর বোলিং ফিগার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নাসুমের তোপের মুখে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ইনিংস থামে মাত্র ৬১ রানে। ১৫তম ওভারে মোহাম্মদ আমির ইনিংসের সর্বোচ্চ ২৫ রান করা মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে আউট করলে তাদের ইনিংসের যবনিকা ঘটে। বিপিএলের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। এর আগে ২০১৯ সালে রংপুরের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ৬৩ রান ছিল এই তালিকার অন্যতম সর্বনিম্ন। বিপিএলে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডে এখনো শীর্ষে রয়েছে খুলনা টাইটান্স; ২০১৬ সালে রংপুরের বিপক্ষে তারা মাত্র ৪৪ রানে অলআউট হয়েছিল।
আজকের ম্যাচে নোয়াখালীর চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই অর্থাৎ ‘ডাক’ মেরে মাঠ ছেড়েছেন। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (২৫) এবং হাবিবুর রহমান সোহান (১৮) ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। ব্যাটারদের এমন দায়িত্বহীন পারফরম্যান্স এবং নাসুমের জাদুকরী বোলিং নোয়াখালীকে এক বড় হারের লজ্জায় ডুবিয়েছে।
শেরেবাংলার উইকেটে বল কিছুটা গ্রিপ করছিল, আর সেই সুযোগটাই দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছেন নাসুম আহমেদ। বিশেষ করে লুপ এবং সঠিক লাইনে বল করে নোয়াখালীর ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করেছেন তিনি। ইনিংসের মাঝপথে তার করা ২ ওভারই মূলত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। সিলেটের সমর্থকরা গ্যালারি মাতালেন নাসুমের এই অবিস্মরণীয় কীর্তিতে। মাঠের চারদিকে ছিল শুধু সিলেটি স্পিনারের বন্দনা। অন্যদিকে, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ডাগআউটে ছিল কেবলই নিস্তব্ধতা।
বিপিএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে এমন একপেশে ব্যাটিং বিপর্যয় সচরাচর দেখা যায় না। তবে নাসুমের আজকের বোলিং ফিগার (৪-১-৭-৫) অনেক দিন মনে রাখবে ক্রিকেটপ্রেমীরা। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল সিলেট টাইটান্স, আর বড় হারের ধাক্কায় প্লে-অফের দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে পড়ল নোয়াখালী।
