বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে ঢাকার দেওয়া মামুলি লক্ষ্য তাড়ায় কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় সাগরপারের দলটি। দুই ওপেনার অ্যাডাম রশিংটন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৪৪ বল হাতে রেখেই ১০ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল শেখ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বাধীন দলটি।
সিলেটের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মেহেদী। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি বোলাররা। ইনিংসের শুরুতেই ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। পাওয়ার প্লে চলাকালীনই ঢাকার দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় চট্টগ্রাম। সাইফ হাসান মাত্র ১ রান এবং জুবাইদ আকবরী ২ রান করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরলে শুরুতেই চাপে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস।
মাঝমাঠে উসমান খান কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করে ২১ রান সংগ্রহ করলেও অন্য প্রান্ত থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ঢাকা। অভিজ্ঞ মোহাম্মদ মিঠুন (৮), শামীম হোসেন (৪) কিংবা সাব্বির রহমানরা (৯) দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হলে মাত্র ৬৮ রানেই ৭ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে রাজধানীর দলটি। এক পর্যায়ে ১০০ রানের নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা জাগলেও অষ্টম উইকেটে ৪৮ রানের একটি কার্যকরী জুটি গড়েন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও নাসির হোসেন। সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে আসে দলের সর্বোচ্চ ৩৩ রান এবং নাসির হোসেন করেন ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১২২ রানেই থেমে যায় ঢাকা ক্যাপিটালসের ইনিংস।
চট্টগ্রামের পক্ষে বল হাতে জাদুকরী পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলাম। ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ৮ রান খরচ করে তিনি শিকার করেন ৩টি মূল্যবান উইকেট। তাঁর মিতব্যয়ী বোলিং ঢাকার ব্যাটারদের রান তোলার গতি পুরোপুরি থামিয়ে দেয়। পেসার শরিফুল ইসলামও ১৮ রান দিয়ে সমান ৩টি উইকেট দখল করেন। এছাড়া অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান ২টি এবং আমির জামাল ১টি উইকেট নিয়ে ঢাকার ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।
১২৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের দুই ওপেনার অ্যাডাম রশিংটন ও মোহাম্মদ নাঈম শেখ শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাটিং করেন। ঢাকার বোলারদের কোনো সুযোগ না দিয়ে তাঁরা মাঠের চারদিকে স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছোটান। রশিংটন মাত্র ৩৬ বলে ৯টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬০ রানের এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে নাঈম শেখও সমানতালে ব্যাটিং করে ৪০ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ১টি বিশাল ছক্কার মার। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ১২৩ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় চট্টগ্রামের।
ঢাকার বোলারদের মধ্যে কেউই চট্টগ্রামের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারেননি। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদ ও ইমাদ ওয়াসিমরা আজ ছিলেন একেবারেই নির্বিষ। মাত্র ১২.৪ ওভারেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার নেট রান-রেটে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উজ্জ্বল এই জয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যা টুর্নামেন্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাঁদের বাড়তি সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, ব্যাটিং বিপর্যয়ের সমাধান খুঁজে না পেলে টুর্নামেন্টের দৌড়ে টিকে থাকা ঢাকার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
