বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ অর্থনীতিবিদদের সংগঠন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি এবং ব্যবসায়ীদের অন্যতম প্রধান সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) পৃথক শোকবার্তায় সংগঠন দুটি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ এক বিবৃতিতে বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এক অন্যতম কারিগর।” তিনি খালেদা জিয়ার আমলের কয়েকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে বলেন:
মুক্তবাজার অর্থনীতি: তাঁর সরকারের আমলেই বাংলাদেশে মুক্তবাজার অর্থনীতির উদারীকরণ প্রক্রিয়া বেগবান হয়, যা দেশের বেসরকারি খাতকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিল।
খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা: এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দেশের দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষার আওতায় এনেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।
নারী শিক্ষার উন্নয়ন: মেয়েদের জন্য উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষা চালু করার মাধ্যমে তিনি যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন, তা আজ বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
অন্যদিকে, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এক শোকবার্তায় বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের অন্যতম প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ। প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছিলেন। ডিসিসিআই উল্লেখ করে যে:
আর্থ-সামাজিক অধিকার: সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছেন। উদ্যোক্তা বান্ধব পরিবেশ: তাঁর শাসনামলে শিল্পায়নের পথ সুগম করতে গৃহীত নীতিগুলো দেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
উল্লেখ্য, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রয়াণে ইতিমধ্যেই সারা দেশে ব্যবসায়িক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ-সহ অন্যান্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও পৃথক বার্তায় তাঁকে ‘একজন আধুনিক ও উন্নয়নকামী রাষ্ট্রনায়ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
