শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ইনডোর স্টেডিয়ামে আজ এক রোমাঞ্চকর ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন সিরিজের পুরুষ দ্বৈত ইভেন্টে দুই বাংলাদেশি জুটির মধ্যকার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন গৌরব সিংহ ও আবদুল জহির তানভীর জুটি।
তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ এক ফাইনালে তাঁরা ২-১ সেটের ব্যবধানে মিজানুর রহমান ও রাহাতুন নাঈম জুটিকে পরাজিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেন। আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে দুই বাংলাদেশি জুটির উপস্থিতি দেশের ব্যাডমিন্টন ইতিহাসে এক অনন্য সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
আজ শুক্রবার ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই কোর্টে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় লিপ্ত ছিল দুই পক্ষই। প্রথম সেটে পয়েন্টের ব্যবধান ছিল খুবই সামান্য। গৌরব ও তানভীর জুটি নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে শেষ পর্যন্ত ২১-১৯ পয়েন্টে প্রথম সেটটি জিতে নেন। তবে দ্বিতীয় সেটে পাশা উল্টে যায়। কোর্ট পরিবর্তনের পর মিজানুর ও নাঈম জুটি আক্রমণাত্মক খেলা শুরু করেন।
এক পর্যায়ে গৌরব-তানভীর জুটি ৭-১ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়েও অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ান এবং ১৫-১৩ পয়েন্টে এগিয়ে যান। কিন্তু মিজান-নাঈম জুটির কৌশলী আক্রমণের মুখে শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেটটি ১৭-২১ পয়েন্টে হাতছাড়া করেন গৌরব-তানভীর। ফলে ১-১ সেটে সমতা আসায় ম্যাচ গড়ায় নির্ণায়ক তৃতীয় সেটে।
তৃতীয় ও শেষ সেটের লড়াই ছিল স্নায়ুক্ষয়ী। দুই জুটির কেউই এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দিতে রাজি ছিল না। খেলার এক পর্যায়ে স্কোর যখন ২০-২০, তখন ইনডোর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তবে শেষ মুহূর্তে চরম ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে গৌরব ও তানভীর জুটি টানা দুই পয়েন্ট তুলে নেন।
২২-২০ পয়েন্টে তৃতীয় সেট জয়ের মাধ্যমে ২-১ সেটে ম্যাচ জিতে উল্লাসে মেতে ওঠেন তাঁরা। এই জয় কেবল গৌরব ও তানভীরের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের ক্রমবর্ধমান শক্তির এক প্রতিফলন।
সাফল্যের এই দিনে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি হাবিব উল্যাহ ডন। তিনি জানান, এর আগে আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন চ্যালেঞ্জের মিশ্র দ্বৈতে ফাইনালে ওঠায় আল আমিন জুমার ও উর্মি আক্তারকে এক হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।
এবার আন্তর্জাতিক সিরিজের ফাইনালে যেহেতু বাংলাদেশের দুটি জুটিই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে, তাই ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাঁদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা হবে। এই পদক্ষেপ উদীয়মান শাটলারদের আন্তর্জাতিক স্তরে আরও ভালো পারফরম্যান্স করতে উৎসাহিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
টুর্নামেন্টের অন্যান্য ইভেন্টেও আজ ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। নারী এককের ফাইনালে মালয়েশিয়ার লিম ঝি শিনকে ২-০ সেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন ভারতের তানভী রেড্ডি। পুরুষ এককের শিরোপা জিতেছেন কাজাখস্তানের দিমিত্রি পানারিয়ান; তিনি মালয়েশিয়ার মোহাম্মদ হারিস সুফিয়ানকে ২-১ সেটে পরাজিত করেন।
নারী দ্বৈতে থাইল্যান্ডের থিটিওয়ারাদা-সারিসা জুটি ২-১ সেটে মালয়েশিয়ান জুটিকে হারিয়ে স্বর্ণপদক লাভ করে। অন্যদিকে, মিশ্র দ্বৈতে অল-মালয়েশিয়া ফাইনালে দাতু আনিফ ইসাক ও ক্লারিসা সান জুটি ২-০ সেটে জয়ী হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতার সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও মেডেল তুলে দেন ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতি হাবিব উল্যাহ ডন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাসেল কবির সুমন, যুগ্ম সম্পাদক তাপতুন নাসরিন এবং জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক শাটলার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক মাহবুব রবসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। গৌরব ও তানভীরের এই আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মের ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়দের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে ক্রীড়াপ্রেমীরা মনে করছেন।
