বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দলীয় বিবেচনা ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের মাধ্যমে নিজেদের লোকজনকে ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অনুমোদন দিয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে ধ্বংস করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই ধরনের দলীয়করণ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আইডিবির মিলনায়তনে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ২৫ বছর পূর্তি উৎসব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই প্রবীণ নেতা প্রশ্ন তোলেন, “সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশে কি এতগুলো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির দরকার ছিল? এই যে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো দলীয় বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিবেচনায় ওই দলের লোকজনকে দিতে হবে। এজন্য কি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি দিতে হবে? এজন্য কি ব্যাংক দিতে হবে?”
তিনি ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক পরিস্থিতির সঙ্গে ইন্স্যুরেন্স খাতের মিল টেনে বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। একের পর এক ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যেখানে স্বয়ং তৎকালীন অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে তাকে ‘দলীয় বিবেচনায়’ এসব অনুমোদন দিতে হয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, যেখানে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জড়িত, সেখানে যদি শুধুমাত্র দলীয় বিবেচনার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং কাজ করা হয়, তাহলে সেই অর্থনীতি কোনোভাবেই টিকে থাকতে পারে না। এটি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর স্থিতিশীলতা নষ্ট করে দেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও অভিযোগ করেন যে, এই অনিয়মের ফলে যারা ব্যাংক ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো থেকে অবৈধভাবে অর্থ তুলে নিয়েছে, কেবল তারাই লাভবান হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তার সঙ্গে জড়িত স্টেকহোল্ডাররা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, “যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে গেছে, ইন্স্যুরেন্স থেকে টাকা নিয়ে গেছে, বিভিন্নভাবে টাকা নিয়ে গেছে, এই কোম্পানিগুলো কিন্তু শেষ হয়ে গেছে।” এর ফলে শুধু কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই নন, বরং শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী এবং পলিসিহোল্ডাররাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো যেসব ব্যাংকে টাকা রেখেছে, তার মধ্যে বিশটিরও বেশি ব্যাংক এখন টাকা ফেরত দিতে পারছে না, যার ফলস্বরূপ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোও তাদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
দেশের অর্থনীতির এই ভঙ্গুর অবস্থা চলতে পারে না বলে দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী দিনে যদি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) জনগণ দেশের দায়িত্বভার অর্পণ করে, তাহলে তারা এই পরিস্থিতিকে চলতে দেবেন না।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব অর্থনৈতিক খাতে বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। বিশেষ করে, অর্থ ও ইন্স্যুরেন্স খাতের রেগুলেটরি বডি বা নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোকে শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ করা হবে। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোকে অবশ্যই ‘দলীয় কর্মকাণ্ডের দলীয়করণ’ থেকে মুক্ত রেখে পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।
তাঁর মতে, এসব সংস্কার অপরিহার্য কারণ এর সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিপুল সংখ্যক সাধারণ জনগণের স্বার্থ, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ, কর্মচারীদের স্বার্থ এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ নিবিড়ভাবে জড়িত। এই সমস্ত দিক মাথায় রেখেই অর্থনৈতিক নীতি ও সংস্কারের পরিকল্পনা করতে হবে।
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী।
