ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জমকালো আসর ১২তম বিপিএল শেষ হওয়ার পরপরই বিশ্ব ক্রিকেটে বেজে উঠবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দামামা। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে বসতে যাচ্ছে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞ।
এই মেগা টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আগামী ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ ছাড়বে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন জাতীয় দল। বিপিএল ও বিশ্বকাপের মাঝে সময়ের ব্যবধান খুব কম থাকায়, দেশের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টকেই নিজের প্রস্তুতির সেরা সুযোগ হিসেবে দেখছেন জাতীয় দলের প্রতিভাবান ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন।
আসন্ন বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের জার্সিতে মাঠে নামবেন এই মারকুটে ব্যাটার। বুধবার মিরপুরে অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বিপিএলকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে দেখার কথা জানান ইমন। তিনি বলেন, “অবশ্যই বিপিএল বিশ্বকাপের জন্য দারুণ একটি প্রস্তুতির মঞ্চ হবে।
এখানে অনেকগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ থাকবে। আশা করছি এখান থেকে ভালো একটি ছন্দে ফিরতে পারব, যা ইনশাআল্লাহ বিশ্বকাপে ভালো করতে সাহায্য করবে।” সিলেট টাইটান্সের দলীয় ভারসাম্য এবং প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ইমন। তিনি মনে করেন, এবারের আসরে তাঁর দল বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
ইমনের ভাষ্যমতে, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দলটি খুব ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব মাঠের পারফরম্যান্সে নিজেদের সেরাটা দিতে। আমাদের অনুশীলন সেশনগুলোও বেশ ফলপ্রসূ হয়েছে। সব মিলিয়ে আমরা একটি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আসর শুরু করতে যাচ্ছি।”
সিলেটের ঘরের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধা প্রসঙ্গে এই ক্রিকেটার জানান, নিজ মাঠের দর্শকদের সমর্থন এবং চেনা কন্ডিশন সবসময়ই সহায়ক। তিনি বলেন, “ঘরের মাঠের সুবিধা আমরা অবশ্যই পাব। এছাড়া আমাদের দলের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ খেলোয়াড়দের জন্য খুব ভালো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে, যা আমাদের পারফরম্যান্সে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।”
ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমন কোনো নির্দিষ্ট বলের হিসেবে সেঞ্চুরি করার চাপে নিজেকে রাখতে চান না। টি-টোয়েন্টিতে শতক হাঁকানো যেকোনো ব্যাটারের জন্যই স্বপ্নের মতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কত বলে সেঞ্চুরি করব—এমন কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য আমি ঠিক করিনি। সবাই চায় বড় ইনিংস খেলতে, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে নিজের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বজায় রেখে খেলার চেষ্টা করব। দলের জয়ের জন্য অবদান রাখাই আমার মূল লক্ষ্য।”
বিশ্বকাপের আগে পারভেজ হোসেন ইমনের মতো তরুণ ওপেনারের ফর্মে থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বিপিএলের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলোতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারলে বিশ্বকাপের মঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মাঠে নামতে পারবেন এই তরুণ তুর্কি।
