বর্তমান ক্রিকেটে ‘রেকর্ড’ আর ‘বৈভব সূর্যবংশী’ যেন একে অপরের সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৪ বছর বয়সী এই বিস্ময়বালক যখনই মাঠে নামছেন, তখনই নতুন কোনো ইতিহাস রচিত হচ্ছে। রাঁচির জেএসসিএ ওভাল মাঠে বিজয় হাজারে ট্রফির উদ্বোধনী দিনেই ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিলেন বিহারের এই ওপেনার।
অরুণাচল প্রদেশের বোলারদের ওপর রীতিমতো স্টিমরোলার চালিয়ে মাত্র ৮৪ বলে ১৯০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন বৈভব। তার এই টর্নেডো ইনিংসে ভর করে লিস্ট ‘এ’ বা ঘরোয়া একদিবসী ক্রিকেটে একাধিক বিশ্বরেকর্ড নতুন করে লেখা হলো।
বিজয় হাজারে ট্রফির এবারের আসরটি ছিল মূলত দুই মহাতারকা বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার দীর্ঘ বিরতির পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরার মঞ্চ। ক্রিকেট প্রেমীদের সব মনোযোগ যখন তাদের ওপর, ঠিক তখনই মাত্র ১৪ বছর ২৭২ দিন বয়সে বৈভব সূর্যবংশী এমন এক ইনিংস খেললেন যা সব আলো কেড়ে নিল নিজের দিকে।
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে বিহারের এই বাঁহাতি ওপেনার শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। মাত্র ৩৬ বলে তিনি তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন, যা লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ দ্রুততম এবং কোনো ভারতীয়র পক্ষে দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। উল্লেখ্য, গত বছর অনমোলপ্রীত সিং মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
সেঞ্চুরিতেই থেমে থাকেননি বৈভব; বরং আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন। মাত্র ৫৯ বলে পূর্ণ করেন নিজের ১৫০ রান। এর মাধ্যমেই তিনি ভেঙে দেন দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের ১০ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬৪ বলে দেড়শ রান করেছিলেন ডি ভিলিয়ার্স।
বৈভবের ৮৪ বলের এই মহাকাব্যিক ১৯০ রানের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১৬টি চোখ ধাঁধানো চার এবং ১৫টি বিশাল ছক্কায়। অর্থাৎ ইনিংসের ১৫৪ রানই এসেছে কেবল বাউন্ডারি থেকে। ডাবল সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১০ রান দূরে থাকতে বিদায় নিলেও ততক্ষণে তিনি ক্রিকেটের ইতিহাসে কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে লিস্ট ‘এ’ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন।
বৈভবের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে অরুণাচল প্রদেশের কোনো বোলারই সুবিধা করতে পারেননি। তাদের প্রধান বোলার তেচি নেরি শেষ পর্যন্ত তাকে আউট করলেও ওভার প্রতি রান খরচের হার ছিল আকাশচুম্বী। এই ইনিংসের মাধ্যমে বৈভব প্রমাণ করেছেন কেন তিনি আইপিএলের মেগা নিলামে রাজস্থান রয়্যালসের মতো দলের নজরে এসেছিলেন এবং ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ১৪ বছর বয়সে পেশাদার ক্রিকেটের এমন বড় মঞ্চে এই ধরনের মানসিক দৃঢ়তা ও শক্তির প্রদর্শন বিরল। বিজয় হাজারে ট্রফির ইতিহাসে বিহারের হয়ে এটিই সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান তারকা হিসেবে বৈভব সূর্যবংশী এখন ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত নাম। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়েতে শুরু হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তিনিই হতে পারেন ভারতীয় দলের তুরুপের তাস।
