দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্থানীয় বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বাজুস কর্তৃক প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মানভেদে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৯৬৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো দুই লাখ ২২ হাজার টাকার মাইলফলক অতিক্রম করল।
বাজুস নির্ধারিত নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, কাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে কার্যকর হবে নতুন দাম। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। উল্লেখ্য, বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারে।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের ব্যয় করতে হবে ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকায়।
সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সাধারণ ক্রেতা ও গয়না ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রুপার দামও। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৭২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ভরিপ্রতি ৩ হাজার ৩৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। রুপার দামের এই বৃদ্ধি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য গয়না কেনাকে আরও কষ্টসাধ্য করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। চাহিদা বাড়ার কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রতিনিয়ত নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী দামের কারণে আসন্ন বিয়ের মৌসুমে গয়না বিক্রির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বাজুসের এই সিদ্ধান্তের ফলে গয়নার বাজারের অস্থিরতা কতটুকু প্রশমিত হবে, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
