বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আসন্ন আসরকে সামনে রেখে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। বিশেষ করে রংপুর রাইডার্স এবার শিরোপার লড়াইয়ে কোনো প্রকার শিথিলতা দেখাতে নারাজ। গত আসরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার নতুন উদ্যমে পথচলা শুরু করেছে উত্তরবঙ্গের এই দলটি।
দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব মিকি আর্থার। টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র পাঁচ দিন আগে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গত বছরের সেই নাটকীয় পতনের পুনরাবৃত্তি এবার কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিপিএলের গত আসরে রংপুর রাইডার্সের যাত্রা ছিল অনেকটা রূপকথার মতো। টুর্নামেন্টের প্রথম আটটি ম্যাচে টানা জয় তুলে নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছিল এবং শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। কিন্তু এরপরই ঘটে ছন্দপতন।
টানা পাঁচটি ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হয় দলটিকে। দারুণ শুরু করেও এমন বিয়োগান্তক বিদায় ভক্ত ও ম্যানেজমেন্টের জন্য ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। সোমবার মিরপুরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নেয় রংপুর। সেই ম্যাচে পরাজয়ের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মিকি আর্থার দলের পারফরম্যান্স এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন।
মিকি আর্থার গত আসরের ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করে বলেন, প্রতিটি দলই চায় টুর্নামেন্টের শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার করতে। গত বছর রংপুর প্রথম আট ম্যাচে অপরাজিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে খাদের কিনারায় পড়ে গিয়েছিল। কোচ হিসেবে তার প্রধান লক্ষ্য হলো কেন সেই ধস নেমেছিল, তা খুঁজে বের করা।
তিনি জানান, টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে তিনি গতবারের ভুলগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন, যাতে এবার নক-আউট পর্বে গিয়ে দলকে আর হতাশ হতে না হয়। ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই হবে এবারের আসরে রংপুরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
রংপুর রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা প্রকাশ করে এই প্রোটিয়া কোচ বলেন, এই দলের সঙ্গে কাজ করা তার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। মালিকপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী—সবার পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে।
আর্থারের মতে, রংপুর রাইডার্স কেবল একটি ক্রিকেট দল নয়, এটি একটি সুসংগঠিত পরিবার। এখানকার চমৎকার কর্মপরিবেশ তাকে সেরাটা দেওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়েও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দলের বর্তমান স্কোয়াড এবং খেলোয়াড়দের সামলানো প্রসঙ্গে আর্থার বেশ আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, দলের প্রত্যেকটি সদস্য অত্যন্ত মেধাবী এবং পরিশ্রমী। তিনি বিশ্বাস করেন, খেলোয়াড়দের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখতে পারলে দলগত সাফল্য অর্জন করা সম্ভব।
রংপুরের হয়ে মাঠে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার একটি সাধারণ লক্ষ্য নিয়ে সবাই একতাবদ্ধ হয়েছেন। কোচ মনে করেন, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের সম্মিলিত উদ্দেশ্য পূরণ করাই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলের এই আসরটি রংপুরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিকি আর্থারের মতো একজন অভিজ্ঞ কোচের অধীনে তারা এবার কেবল ভালো ক্রিকেট খেলতেই নয়, বরং শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে টিকে থাকতে চায়।
মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে প্রস্তুতি ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার অপেক্ষায় আছে রংপুর রাইডার্স। উত্তরবঙ্গের ক্রিকেটপ্রেমীরাও আশা করছেন, এবার তাদের প্রিয় দল গতবারের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ঘরে তুলবে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট।
