বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান সময়ের অন্যতম দ্রুততম পেসার নাহিদ রানা। গত এক বছরে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের গতির ধার দেখিয়ে জাতীয় দলে একপ্রকার নিয়মিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে আধুনিক ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতে কেবল গতিই যথেষ্ট নয়—এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) উপলক্ষে নিজের বোলিং ভাণ্ডারে নতুন বৈচিত্র্য যোগ করছেন এই তরুণ তুর্কি। গত আসরের মতো এবারও রংপুর রাইডার্সের জার্সিতে মাঠে নামবেন তিনি। গত আসরের শেষ দিকে ফর্ম কিছুটা পড়তির দিকে থাকলেও, এবারের আসরে নতুন কিছু চমক নিয়ে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নাহিদ।
বিপিএলের একাদশ আসরের প্রস্তুতি নিতে রবিবার (২১ ডিসেম্বর) মিরপুরে প্রথমবারের মতো রংপুর রাইডার্সের অনুশীলনে যোগ দেন নাহিদ রানা। অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি তাঁর নতুন পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। নাহিদ জানান, এবারের আসরে কেবল গতির ওপর নির্ভর না করে কিছু নতুন স্কিল বা দক্ষতা অর্জনের ওপর তিনি বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটারদের রুখতে ‘স্লোয়ার’ এবং নিখুঁত ‘ইয়র্কার’ ডেলিভারি নিয়ে নিবিড় কাজ করছেন তিনি।
নিজের নতুন স্কিল সম্পর্কে নাহিদ রানা বলেন, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ। আমি চেষ্টা করছি নতুন যে দক্ষতাগুলো নিয়ে কাজ করছি, সেগুলো বিপিএলে সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ডেথ ওভার বা শেষ দিকের বোলিংয়ে নিখুঁত ইয়র্কার এবং গতির বৈচিত্র্য (স্লোয়ার) অত্যন্ত কার্যকর। আমি চেষ্টা করছি এই ডেলিভারিগুলো যেন শতভাগ সফলভাবে করতে পারি।”
ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যকেই সবসময় অগ্রাধিকার দেন এই গতিদানব। বিপিএলে নিজের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নাহিদ বেশ পরিণত উত্তর দেন। তিনি বলেন, “মাঠে নামার সময় আমার মাথায় ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য থাকে না। আমি কখনোই সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার কথা চিন্তা করি না। আমার একমাত্র লক্ষ্য থাকে দলের জয়ে অবদান রাখা। যদি আমি উইকেট না পেয়েও কিপটে বোলিং করে দলকে জেতাতে পারি, তাতেই আমি সবচেয়ে বেশি সন্তুষ্ট থাকব।”
নাহিদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ব্রেকথ্রু এনে দেওয়া বা প্রতিপক্ষের রানের গতি টেনে ধরাই একজন বোলারের সার্থকতা। তিনি আরও যোগ করেন, “দেশের হয়ে খেলি কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে—দলকে ম্যাচ জেতানোই আমার প্রধান লক্ষ্য। যদি দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে বা ডট বল করে আমি অবদান রাখতে পারি, তবেই আমার পরিশ্রম সার্থক বলে মনে করি।”
গত বছর বিপিএলের শুরুর দিকে নাহিদের গতির ঝড়ে অনেক ব্যাটারই পর্যুদস্ত হয়েছিলেন। তবে টুর্নামেন্টের মাঝপথে এসে তাঁর কার্যকারিতা কিছুটা কমে গিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও বেশি চতুর ও বৈচিত্র্যময় বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চান তিনি। রংপুর রাইডার্সের বোলিং ইউনিটে নাহিদ রানার গতির সাথে নতুন এই ‘স্লোয়ার’ অস্ত্র কতটা আতঙ্ক ছড়ায়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
